জলাবদ্ধ রাজধানী


জলাবদ্ধতা রাজধানীর অনেক পুরোনো সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময় নেয়া হয়েছে নানা প্রকল্প। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নগরবাসীর অনেকেই বলছেন রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবমুখী কোন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে না, আর এ জন্য নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে।

নগর পরিল্পনাবিদরা বলছেন, দিন দিন ঢাকা শহরের খোলা জায়গাগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে, আর দখল হয়ে যাওয়া জায়গুলিতে পাকা দালান গড়ে ওঠায় পানি চুয়ে নিচে যেতে না পারায়, রান অব ওয়াটার বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে জলাবদ্ধতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রতি আট দশ বছর পর পর এ রকম অতি বর্ষণ হতে পারে, এটাকে মাথায় নিয়েই নগরীর ডেনেজ সিস্টেম করা উচিত।

রাজধানীতে জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বৃষ্টির পানি প্রথমত ভূগর্ভে শোষণ করে নেয়, বাকি পানি রান অব ওয়াটার হয়ে খাল বিল ও ড্রেন দিয়ে নদীতে চলে যায়। কিন্তু এখানে এই দুই পথের সবই অকার্যকর। তাছাড়া নগরীতে যে ড্রেনগুলো আছে তাও আবর্জনায় পূর্ণ, পানি যাওয়ার রাস্তায় বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে, এ কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে।

এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর দায়ও কম নয় বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। নিষিদ্ধ পলিথিন আর যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার বাজে অভ্যাস যতদিন নগরবাসী বাদ না দেবে, ততদিন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলেই তারা মনে করেন।

ঢাকার পরিকল্পনা বলতে জানা যায় ১৯৫৯-৬০ সালের একটি পরিকল্পনার কথা। ওই ‘মাস্টার প্ল্যানে’ ঢাকার চারপাশের নিম্নাঞ্চল ও নদী, শহরের খাল, বিল, ঝিল— এসব রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল। অর্থাৎ একধরনের জলের সঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনা। কিন্তু আশির দশকে এসব বিবেচনায় না নিয়ে এক ধরনের লাগামছাড়া নগরায়ন শুরু হয়। তাতে সমস্যা আরও বেড়ে যায় বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

রাজধানীর ড্রেনেজ সিস্টেমের দায়িত্ব ছিল স্থানীয় সরকার ও সিএনবির ওপর। কিন্তু আশির দশকে ওয়াসা ড্রেনেজ বিভাগ খুলে দায়িত্ব তাদের কাঁধে তুলে নেন। সে অনুযায়ী নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করার দায়িত্ব ওয়াসার। কিন্তু এখন এসে ওয়াসা জলাবদ্ধতার দায় নিতে চাচ্ছে না। অন্য দিকে সিটি করপোরেশন বলছে জলাবদ্ধতার দায় ওয়াসার ওপরই বর্তায়।

মন্তব্যসমূহ