মিথিলা-তাহসানঃ অভিনেতা-অভিনেত্রিদের বিচ্ছেদ


গুজব আছে সিনেমা তারকারা নিজেদের কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি নিজেরাই রটিয়ে থাকেন। ইংরেজি প্রবচন আছে- কুখ্যাতি খ্যাতিকে ডেকে আনে। তারকাদের চেষ্টা নটোরিয়াস হওয়া কারণ সেটা ফেমাস হওয়ার সোপান। দেখেন না কোন কোন নায়িকা অভিনয়ের খাতিরে শরীরে সূতাটি পর্যন্ত রাখবেন না বলে ঘোষণা দেন! 

শেক্সপিয়ার তাঁর ‘এজ ইউ লাইক ইট’ নাটকে বলেছিলেন পৃথিবীটা নাট্যমঞ্চ, আর সমস্ত পুরুষ ও মহিলা হলো অভিনেতা-অভিনেত্রী। উনি মানুষ না বলে পুরুষ ও মহিলা কেন বলেছেন জানি না। 

অভিনয় করা নিতান্ত সহজ কাজ নয়। মিথিলা-তাহসান জুটিও স্বীকার করে নিয়েছেন যে তারা দু’বছর ধরে সংসারটা এক রকম অভিনয় করে চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু আর পারলেন না। 

একটি প্রেমের ছবি দেখে এক বিবাহিত লোক স্ত্রীকে বললেন, ‘এই ছবির নায়ক কী দুর্দান্ত অভিনয় না করলেন।’ স্ত্রী বললেন, ‘জানো না, ব্যক্তিগত জীবনেও ওরা দুজনে স্বামী-স্ত্রী। আজ তেরো বছর ওদের বিয়ে হয়েছে।’ স্বামী হতভম্ব হয়ে বললেন, তাহলে নায়কের অভিনয় অত্যন্ত উঁচুদরের বলতে হয়! কেমনে কী!’ 

তবে অভিনয় করা খুব সহজ নয়। মনে করেন আপনি মৃত ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করছেন। মরার মতো মঞ্চে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। এমন সময় মশা আপনার পিঠে কামড় দিলো। আপনি নাটক ফাটক ভুলে গিয়ে হাত উঠিয়ে লাগালেন পিঠে থাপ্পড়! সব পণ্ড! 

তবে সম্প্রতি শাকিব-অপু উৎকৃষ্ট অভিনয় করেছেন। ফাঁস হয়েছে যে নিজেরা প্ল্যান করে মিডিয়ায় তাদের বিয়ের ব্যাপারটা প্রকাশ করতে গল্প ফেঁদেছিলেন। টিভিতে অপুর কান্নাকাটি দেখে শাকিব খানকে লুচ্চা বলে গালি দিছিলাম। আজকে সেটা ফিরিয়ে নিচ্ছি। ওদিকে ফরহাদ মজহার। আশা করছি নতুন ফুটেজ হাতে আসবে। আবার সরকারের তোষামোদ করতে গিয়ে বরিশালের ইউএনও মহোদয়ের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা মঞ্চস্থ করলেন এক আওয়ামিলিগার। উল্টো তার মুন্ডুপাত হচ্ছে মিডিয়ায়। তা হোক, পরিচিতি তো পেলেন! ঐ যে কুখ্যাতি খ্যাতিকে ডেকে আনে। তোষামোদের রাজনীতি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। 

অত্যাচারী গ্রীক রাজা ডেনিসকে তোষামোদ করতেন না দার্শনিক ডায়োজিনিস। ফলে তাঁর জীবনে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। অপরদিকে এরিস্টিপাস নামক আরেকজন দার্শনিক রাজাকে তোষামোদ করে বড়লোক বনে যান। একদিন এরিস্টিপাস ডায়োজিনিসকে কেবলমাত্র তরকারি দিয়ে রুটি খেতে দেখে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, ‘রাজাকে তোষামোদ করে চললে কেবলমাত্র তরকারি দিয়ে রুটি চাবাতে হতো না আপনাকে।’ ডায়োজিনিস মৃদু হেসে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি শুধু তরকারি দিয়ে রুটি খেতে শিখতেন তাহলে অত্যাচারী রাজাকে আপনার তোষামোদ করতে হতো না!’ 

মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বিষয় ছিলো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিয়ে-বিচ্ছেদ ইত্যাদি। তাদের বিয়ে আর বিয়ে-বিচ্ছেদ নিয়ে মজার মজার গল্প আছে। 

পনেরবার বিয়ে করা অভিনেত্রি শেষবার বিয়ে করে পতিগৃহে এলেন। অভিনেত্রীর একটু খটকা লাগলো। ঘরের এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলেন তারপর নতুন স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটাই তোমার বাড়ি?’
স্বামী উৎসাহিত হয়ে বললেন, ‘তোমার পছন্দ হয়নি বুঝি?’
একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে অভিনেত্রী মহোদয়া বললেন, ‘পছন্দ না হওয়ার কী আছে? বেশ ভালো বাড়ি। কিন্তু কেমন যেন সব চেনা চেনা লাগছে। তারপর একটু থেমে স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা আমাদের দুজনের আগেও কি বিয়ে হয়েছিলো?’ 

হলিউডের দুই অভিনেত্রীর দুই সমবয়সী কন্যা পার্কে বসে গল্প করছেঃ 
প্রথমঃ কিরে তোর নতুন বাবা কেমন হয়েছে?
দ্বিতীয়ঃ খুব ভালো। আমাকে অনেক চকলেট কিনে দিছে।
প্রথমঃ ‘জানি। তোর বাবা অনেক ভালো। গত বছর তোর নতুন বাবাই আমাদের বাবা ছিলো। তোরা খুব ভালো বাবা পেয়েছিস।’ 

এ গল্পটি আতাউর রহমানের বইতে পড়েছিলাম। তড়িঘড়ি ডিভোর্সের প্রয়োজন পড়ায় হলিউডের এক অভিনেত্রীকে পরামর্শ দেয়া হলো আপনি মেক্সিকো চলে যান, ওখানে ডিভোর্স দিতে-নিতে ফরমালিটিজ কম। মেক্সিকো গিয়ে বিচ্ছেদের মোকদ্দমা করলেন তিনি। কিন্তু কোর্টে মেক্সিকান জজের ভাষা বেচারি বুঝতে পারলেন না। তাকে বলা হলো, জজ সাহেবের প্রশ্নের উত্তরে আপনি শুধু ‘সি-সি’ বললেই হবে। তিনি তাই করছিলেন। আদালত বেশ চলছিলো। কিন্তু সহসা আদালতসুদ্ধ সবাই হো হো করে হেসে উঠলে তিনি দোভাষীকে জিজ্ঞেস করলেন, ডিভোর্স বুঝি সম্পন্ন হলো? দোভাষী উত্তর দিলো, ‘ডিভোর্স না ছাই, এইমাত্র জজ সাহেবের সঙ্গে আপনার বিয়ে হয়ে গেলো!’ 

মিথিলা-তাহসান জুটির বিচ্ছদের কারণ হিসেবে মুখরোচক কাহিনী শুনতে পাচ্ছি। অন্য মডেলের প্রতি আসক্তি আছে বলে গুজব। পরকীয়া টরকিয়া আছে নাকি? 

এক লোকের মুদ্রাদোষ ছিলো সে কথায় কথায় বলতো ‘এত্থেকে খারাপ কিছু হতে পারতো।’ একদিন এক প্রতিবেশী এসে বললেন, ‘ঘটনা শুনেছেন? আমাদের পাড়ার সালাম সাহেব গত রাতে আকস্মিক ট্যুর থেকে ফিরে স্ত্রীকে আরেকজনের সঙ্গে বিছানায় দেখে রিভলবার দিয়ে দুজনকে মেরে ফেলে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।’ লোকটা স্বভাবসুলভ ‘এত্থেকে খারাপ কিছু হতে পারতো’ বলে মন্তব্য করলো। প্রতিবেশী ক্ষেপে গিয়ে বললেন, ‘আপনার যেমন কথা! তিন তিনটা লোক মারা গেলো- এত্থেকে খারাপ আর কী হতে পারতো শুনি?’ লোকটি বল্লো, ‘সালাম সাহেব যদি ট্যুর থেকে গত রাতে না ফিরে তার আগের রাতে ফিরতেন তাইলে ঐ লোকটির বদলে আমি মারা পড়তাম!’ 

মন্তব্যসমূহ