২৬ শিশু টানা ২২ ঘণ্টা কাজ করতো, শাস্তি হাতুড়ির আঘাত

এক চিলতে ঘরে ঠাসাঠাসি করে রাখা হত শিশুগুলোকে। ঘুমনোর সময় ছিল মাত্র দু’ঘণ্টা। আর তারপর টানা ২২ ঘণ্টা ধরে টানা কাজ আর কাজ। কাজে সামান্য ভুলচুক হলে বেধড়ক মার। দেরিতে যে কাজ শেষ করবে তার জন্য ছিল আলাদা শাস্তির ব্যবস্থা। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হতো তার শরীরে।ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলামপুরের একটি জিনস‌ কারখানায় বছরের পর বছর এভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল শিশুরা। সম্প্রতি পুলিশের সাহায্যে সেখান থেকে ২০ শিশুকে উদ্ধার করে নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থীর মানবাধিকার সংস্থা ‘বচপন বাঁচাও আন্দোলন’। নোবেলজয়ী কৈলাশ জানান, যখন তাদের উদ্ধার করা হয় তারা এতটাই দুর্বল ছিল যে, হাঁটতে পর্যন্ত পারছিল না। সারা শরীরে ক্ষত ছিল। এমনকী ঠিক মতো চোখ চেয়ে তাকাতেও পারছিল না। চিকিৎসার পর একটু একটু করে সুস্থ হচ্ছে তারা। পুলিশ জিনস‌ কারখানার মালিককে গ্রেফতার করেছে।


কী ভাবে সামনে এল এই ঘটনা! কৈলাশ সত্যার্থী জানান, দিন কয়েক আগে দিল্লির আনন্দবিহার রেল স্টেশনে ৬ শিশুকে ইতিউতি ঘুরে বেড়াতে দেখতে পান তাঁর এনজিও-র কর্মীরা। ভীষণ আতঙ্কগ্রস্ত ছিল তারা। প্রথমে কর্মীদের কোনও কথারই জবাব দিচ্ছিল না। ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছিল। তারপর মুখ খোলে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলামপুরের ওই জিনস কারখানা থেকে সুযোগ বুঝে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের মতো আরও অনেকে ওই কারখানায় তখনও বন্দি হয়ে রয়েছে। কারখানায় তাদের সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা শুনে চমকে যান এনজিও-র কর্মীরা।
শিশুরা জানায়, রোজ সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে যেত তাদের কাজ। কারখানার মালিক বস্তা বস্তা জিনসের প্যান্ট তাদের দিয়ে যেত। যেগুলোর সুতো কেটে প্যাকিং করতে হত। রোজ এক একজন পাঁচ হাজার করে জিনস এই ভাবে প্যাকিং করে যেত। সকাল ৭টা থেকে পরের দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত একই ভাবে বসে কাজ করতে হত তাদের। পানি খাওয়া বা বাথরুমে যাওয়ারও অনুমতি মিলত না।  
যদি কেউ ঝিমিয়ে পড়ত বা কাজ থামিয়ে ফেলত, তাহলে তাকে লাঠি, রড এমনকী হাতুড়ি দিয়েও পেটানো হত। আর যে দিন যে সবচেয়ে দেরিতে কাজ শেষ করত তাকে সে দিন হাতুড়ি দিয়ে আরও নির্মম ভাবে মারা হত। খাওয়া-দাওয়াও ছিল খুব নিম্নমানের। দু’বেলা এক মুঠো করে ভাত আর কয়েক টুকরো আলুসিদ্ধ।

বিষয়টি জানতে পেরে ওই সংস্থার কর্মীরা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের থেকে ঠিকানা জেনেই পুলিশ জিনস কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে বন্দি থাকা বাকি শিশুদের উদ্ধার করে। -হিন্দুস্তান টাইমস। 

মন্তব্যসমূহ