হোক্কাইডো আইল্যান্ডে এক বাংলাদেশী নারীর জীবনযুদ্ধ আর শিহরণ জাগানিয়া উপাখ্যান ‘অরোরা টাউন

দীর্ঘ নয় বছর পর হঠাৎ করেই 'অরোরা টাউন' উপন্যাসের চরিত্র গুলো নিজ মহিমায় মস্তিস্কে হাটাহাটি কিংবা চলাচল করতে শুরু করে। সময় আর সূযোগ হয়ে উঠছিল না।কিন্তু লেখক মন শত ব্যস্ততায় খুঁজে নেয় তার চিন্তা শক্তির শেষ আশ্রয় লেখালেখিতেই।
কোন এক সময়ে জাপানের হোক্কাইডো আইল্যান্ডের গভীর নিস্তব্ধতায় সে চরিত্র গুলো আরও মূর্তমান হয়ে উঠে। জাগতিক জীবন থেকে আমার মনকে বার বার একান্ত নৈশব্দে ছুড়ে ফেলে।আমি আমার চারপাশের জগৎ ছেড়ে একান্ত সেচ্ছায় নিসঙগতাকেই বেছে নেই। সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্ত আমার সমগ্র সময় কেটে যায় তাদের সাথে কথোপকথনে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অরুনিমা। বাংলাদেশের চির চেনা এক শিক্ষিত তরুনী। উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরন করতে পারি জমায় জাপানের হোক্কাইডো আইল্যান্ডের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু কঠিন বন্ধুর পৃথিবীতে সফলতার গল্প কি এতো সহজ?
ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কতি, ভিন্ন আবহাওয়া,ভিন্ন জীবন আর ভিন্ন বেঁচে থাকার সবপ্ন।সেই সাথে আছে ব্যয়বহুল জাপানে টিকে থাকার সংগ্রাম। প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক টানাপোড়নের সাথে হিসেব কষাকষি। তারপর
একা চলতে চলতেই নিজ দেশের মানুষ আর সমাজের সন্ধান মেলে। নতুন করে জীবনে আসে আলাদা নতুন নতুন মানুষ আর অভিজ্ঞতা।



বাংলাদেশিদের চিরন্তন চিন্তা ভাবনা আর সংস্কৃতি যেন পৃথিবীব্যাপী।
নানা রকম চিন্তা আর মানুষের ভীড়ে অরুনিমার একান্ত মন অসহায় হয়ে উঠে।
হোক্কাইডো আইল্যান্ডের চোখ ধাঁধাঁনো সৌন্দর্যে নিজের মন ভালবাসার আর বেচেঁ থাকার স্বপ্ন খুঁজে পায়।
হোক্কাইডো আইল্যান্ডের একদিকে জাপান সাগর আর অন্য দিকে প্রশান্ত মহাসাগর এক ভিন্ন নৈসর্গিক সৌন্দর্য। যেখানে বেঁচে থাকুলতা মানুষের মনকে তীব্র করে তোলে।অরুনিমা ও খুঁজে বেঁচে থাকার ভিন্ন পথ। মাটির নিচের শহরের 'অরোরা টাউন' নামের এক শপিং মলের রেঁস্তরায় তার খন্ডকালিন চাকরি হয়। খুঁজে পায় জীবনের নতুন ছন্দ।
সেখানে দেখা হওয়া বিচিত্র মানুষ গুলোর জীবন তাকে দেয় নতুন নতুন শিহরনে ভরা অভিজ্ঞতা।
তারপর প্রতিদিনের হাজারো দুঃখ যন্ত্রনার মধ্যেও মাসাহিকো নামের এক জাপানি যুবকের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা অরুনিমার প্রেমিক মনকে ছুঁয়ে যায় একান্ত গোপনে। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তা সফল হতে দেয় না।
তারপর হোক্কাইডো আইল্যান্ডে বিভিন্ন দেশের মানুষ আর বাংলাদেশির বেঁচে থাকার বিচিত্র অভিজ্ঞতায় অরুনিমা নতুন সাহসে জেগে উঠে।
তারপর জীবনের নানা শিহরন জাগানিয়া ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেই দেখা হয় আরেক উচ্চ শিক্ষিত পুরুষ নাদভি। নাদভির সাথে শুরু হয় আরেক অধ্যায়। সে অধ্যায়ে অরুনিমা কি তার ব্যক্তিত্ত্ব আর স্বাধিন চিন্তা ভাবনা নিয়ে সুখি? সে কি পারবে শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্নের দরজায় পৌছতে?
উপন্যাসটি পাওয়া যাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা প্রকাশনীর স্টলে।
স্টল নাম্বার ৬১২-৬১৫
মূল্য ১৬০ টাকা
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের জীবন যুদ্ধ, জীবনাচরণ এবং হোক্কাইডো আইল্যান্ডের সৌন্দর্যময়তা সব কিছুই সততার সাথে আমি আমার চিন্তায় অংকন করতে চেষ্টা করেছি। আাশাকরি এই উপন্যাসটি পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দিবে। আপন গুনে পাঠকের হৃদয় কে ছুঁয়ে যাবে।
বইটি সর্বাধিক পাঠকের কাছ পৌছানো এবং গ্রহন যোগ্যতা অর্জনে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
নুরুন নাহার লিলিয়ান
নির্বাহী সম্পাদক
নারী বিষয়ক নিউজ পোর্টাল।

মন্তব্যসমূহ