থমথমে আশুলিয়া কারখানা খোলেনি, বিজিবি মোতায়েন ১২০ শ্রমিক বরখাস্ত


থমথমে পরিস্থিতি শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায়। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের টানা দশ দিনের বিক্ষোভের মুখে গতকাল সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কারখানা ভাঙচুর করায় উইন্ডি গ্রুপ ১২০ জন শ্রমিক বরখাস্ত করেছে। গতকাল সকালে কারখানার ফটকের সামনে বরখাস্ত শ্রমিকদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে আশুলিয়ার ৫৫টি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন-বিজিএমইএ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা আর শ্রমিকদের অনড় অবস্থানের মধ্যে সেখানে ঘোলাটে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, আশুলিয়ার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, ১০ প্লাটুন বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এদিকে পোশাক কারখানায় সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে গতকাল গাজীপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা হয়েছে। শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার উইন্ডি গ্রুপের পোশাক কারখানায় মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৬ দফা দাবিতে শ্রমিকরা গত ১২ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। শ্রমিকরা কারখানায় বিক্ষোভকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১২০ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করে উইন্ডি গ্রুপ। ৫৫টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি ছাড়াও শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশ ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে সড়কে মহড়া দিতে দেখা গেছে। গতকাল সকাল থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক গণপরিবহন চলাচল বন্ধ আছে। কেবল  রিকশা ও মাহিন্দ্রা চলাচল করতে দেখা গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। গত মঙ্গলবার রাজধানীর বিজিএমইএর সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তার মালিকানাধীন স্টার্লিং অ্যাপারেলস, স্টার্লিং ক্রিয়েশন, স্টার্লিং স্টাইল ও বান্দ ডিজাইনসহ আশুলিয়ার ৫৫টি পোশাক কারখানা শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন। এ সময় শ্রমিকরা কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় আশুলিয়ার সর্বত্র খোলা জিপে শ্রমিকদের উদ্দেশে কারখানা ও কারখানা ফটকের সামনে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রচার করা হয়। সাভার ও আশুলিয়ায় ছয়শ-এর বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে। বন্ধ কারখানার সামনে শ্রমিকরা যাওয়ার চেষ্টা করলেও বাধা দেওয়া হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।   


তা ছাড়া গতকাল সকাল থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে গণপরিবহন চলাচল না করায় অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি। বাইপাইল এলাকায় পুলিশ কোনো যানবান ঢুকতে দেয়নি। গতকাল সকাল থেকে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মজিবুর রহমান, থানা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আরিফ মাদবর, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বন্ধ ঘোষিত ৫৫টি কারখানা ছাড়া বাকি কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা কর্মবিরতি পালন করেন। আর বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের গতকাল দল বেঁধে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে দেখা গেছে। শ্রমিকরা জানান, ঊর্ধ্বমুখী বাজার ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিসহ ব্যয়ভার বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরি দিয়ে তাদের জীবন-ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য তারা ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজারসহ ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। তারা জানান, বিজিএমইএ বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের দুর্দশা আরও বাড়বে।


আন্দোলনে নামিয়ে সরে গেছেন নেতারা : শ্রমিকদের আন্দোলনে নামিয়ে নেতারা সরে গেছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। গতকাল আশুলিয়ার জামগড়া, বেরন, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুরসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তবে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের পেছন থেকে কারা উসকানি দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

মন্তব্যসমূহ