সৌদি স্বৈরতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের পতন আসন্ন না হলেও অনিবার্য

সৌদেও ভেতরে-বাইরে থেকে ঘুণ ধরেছে। দুর্নীতি, অত্যধিক হারেমপ্রীতি, ধর্মের নামে সব ধরনের সামাজিক প্রগতির পথ রুদ্ধ করে রাখা, মধ্যযুগীয় ভোগবিলাস, ইসলামের নামে কট্টর ওয়াহাবি মতবাদের চর্চা, মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম স্বার্থবিরোধী ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহকের ভূমিকা গ্রহণ, শিয়া-সুন্নি বিরোধ ঘটানো এবং আহমদিয়াদের অমুসলমান ঘোষণা করে বিশ্বে ইসলামী উম্মাহকে বহুধাবিভক্ত করে ফেলা; পবিত্র হজের সময় বিভিন্ন মুসলিম দেশের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ব্যবহার, সৌদি রাজতন্ত্র রক্ষার জন্য ইসলামের নামে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী মৌলবাদকে অস্ত্র ও অর্থের জোগান দেওয়া ইত্যাদি বহু কারণে হাউস অব সৌদ এখন বাইরে যতই শক্ত ভাব দেখাক, তার ভিতে ঘুণ ধরে গেছে। এই হাউসের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা।


সময়ের গতি ও পরিবর্তন যে রুখে রাখা যায় না, সৌদি পরিবারেও রাখা যায়নি, বরং কঠোর পর্দায় ঢাকা বাদশাহি পরিবারেও পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল মাত্র কয়েক দশক আগেই। সৌদি রাজপরিবারের এক প্রিন্সেস বা রাজকুমারী একজন সাধারণ সৌদি নাগরিকের প্রেমে পড়েছিলেন। এটাকে শরিয়াহবিরোধী পাপ ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ঘোষণা করা হয়। প্রিন্সেস ও তাঁর প্রেমিককে প্রকাশ্যে শরীরের অর্ধাংশ মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
এক ব্রিটিশ ফটো জার্নালিস্টের হাতে কিভাবে এই হত্যাকাণ্ডের ছবি পৌঁছেছিল তা জানা যায়নি। তিনি সেই ছবিকে ভিত্তি করে একটি ফিল্ম তৈরি করেন, যার নাম 'ডেথ অব এ প্রিন্সেস'। ছবিটির খবর সানডে টাইমসসহ কয়েকটি ব্রিটিশ পত্রিকা ফলাও করে প্রচার করে। ফলে ব্রিটেনের ওপর সৌদি বাদশাহরা অত্যন্ত রাগান্বিত হন। ব্রিটেনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন। ব্রিটেনের তৈল-স্বার্থ বিপন্ন হয়ে পড়ে। তখন টোরি সরকার ক্ষমতায়। মার্গারেট থ্যাচার ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সৌদি সরকারকে জানান, ব্রিটেনে সংবাদপত্র স্বাধীন। তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এ জন্য থ্যাচার সরকার দুঃখিত। এরপর স্বয়ং মার্গারেট থ্যাচার সৌদি বাদশাহদের ক্রোধ নিবারণের জন্য রিয়াদ সফর করেন। ধীরে ধীরে বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটে।

মন্তব্য